আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস

জামি’আ ছিদ্দিকিয়া আমবাগান মাদরাসা:

ঐতিহ্য, আদর্শ ও আবেদন

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মুক্তির সোপান। মানুষকে মূর্খতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার মহান ব্রত এবং আল্লাহ প্রদত্ত কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক একটি আদর্শ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জামি’আ ছিদ্দিকিয়া ঈশ্বরদী’। যা স্থানীয়ভাবে ‘আমবাগান মাদরাসা’ নামেই সর্বমহলে পরিচিত।

প্রতিষ্ঠা ও অবস্থান:

১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঈশ্বরদী শহরের উপকন্ঠে আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় অত্যন্ত মনোরম ও শান্ত পরিবেশে এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি সুদীর্ঘ সময় ধরে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে।

লক্ষ্য ও আদর্শ:

বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’-এর চেতনা বুকে ধারণ করে এই জামি’আ পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আদর্শ ও চিন্তা-চেতনা লালন করে এবং ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। সর্বস্তরের মুসলমানের মাঝে ঈমানী চেতনা উজ্জীবিত করা এবং নববী আদর্শে দেশ ও জাতি গঠনে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই প্রতিষ্ঠান নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভাগসমূহ:

মাদরাসাটিতে ইবতিদাইয়্যাহ (প্রাথমিক) থেকে শুরু করে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) পর্যন্ত পাঠদানের সুব্যবস্থা রয়েছে। এর শিক্ষা কার্যক্রম মূলত চারটি প্রধান বিভাগে বিভক্ত:

মক্তব বিভাগ: কায়দা, আমপারা, তাজভীদসহ কুরআন শিক্ষা এবং পাশাপাশি ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা, অঙ্ক ও ইংরেজি শিক্ষা।

হিফজ বিভাগ: তাজভীদসহ সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ মুখস্থকরণ।

কিতাব বিভাগ: তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আরবি সাহিত্য, উর্দু ও ফার্সিসহ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত পাঠদান।

নূরানী ক্যাডেট শাখা: শিশুদের আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে তোলা।

শিক্ষার্থী ও সেবা:

বর্তমানে মাদরাসাটিতে প্রায় ৩৮ জন দক্ষ শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োজিত আছেন এবং প্রায় ৬০০-৭৫০ জন ছাত্র এখানে অধ্যয়নরত। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সমৃদ্ধ পাঠাগার, সাপ্তাহিক বক্তৃতা প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য ‘ফতোয়া ও পরামর্শ’ এবং ‘দাওয়াতে তাবলিগ’-এর মতো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে।

আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে আপনার প্রতি বিশেষ আবেদন

প্রিয় দ্বীন দরদী ভাই ও বোনেরা,

আপনারা জানেন, এই বিশাল দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি কোনো সরকারি অনুদান ছাড়াই শুধুমাত্র আল্লাহ তা’আলার মেহেরবানী এবং আপনাদের মতো ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দান-সদকার ওপর ভিত্তি করে চলে। এতিম, অসহায় ও গরিব ছাত্রদের থাকা-খাওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার প্রয়োজন হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীস অনুযায়ী, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব কেয়ামত পর্যন্ত জারি থাকে। এই মাদরাসাটি আপনার জন্য সেই সদকায়ে জারিয়ার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।

অতএব, আপনাদের প্রতি আমাদের বিনীত আবেদন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখেরাতের মুক্তির লক্ষ্যে আপনাদের যাকাত, ফিতরা, মান্নত, কাফফারা ও কুরবানির চামড়ার অর্থ মাদরাসার ‘গোরাবা তহবিলে’ এবং সাধারণ দান ও এককালীন অনুদান মাদরাসার ‘সাধারণ তহবিলে’ প্রদান করে অশেষ সওয়াবের ভাগীদার হোন।

নিবেদক:

মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন

(মুহতামিম)।

সার্বিক যোগাযোগ ও অনুদান পাঠানোর ঠিকানা

যোগাযোগ:

মুফতী আব্দুল্লাহ আল মামুন

মুহতামিম , অত্র জামি’আ।

মোবাইল: ০ ১ ৭ ১ ২ - ০ ২ ৫ ৪ ৭ ৮

ব্যাংক মারফত অর্থ প্রেরণের ঠিকানা:

আপনার কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে মাদরাসায় পৌঁছাতে নিচের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করতে পারেন:

গোরাবা তহবিল (যাকাত/ফিতরা):

হিসাব নং:  20502290201554906

ইসলামী ব্যাংক, ঈশ্বরদী শাখা, পাবনা।

জেনারেল তহবিল (সাধারণ দান):

হিসাব নং: 01000218870301

জনতা ব্যাংক, ঈশ্বরদী শাখা, পাবনা।

বিকাশ -01706-006420

আল্লাহ তা’আলা আপনার জান-মাল ও দানকে কবুল করুন। আমিন।